সংবাদ শিরোনাম

নিউ জার্সি আইসি হেফাজতে সালভাদোরীয় অভিবাসীর মৃত্যু

 প্রকাশ: ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ১১:১৯ পূর্বাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

নিউ জার্সি আইসি হেফাজতে সালভাদোরীয় অভিবাসীর মৃত্যু

 আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের একটি অভিবাসন আটককেন্দ্রে হেফাজতে থাকা এক সালভাদোরীয় অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। আট মাসের ব্যবধানে একই কেন্দ্রে এটি দ্বিতীয় মৃত্যু। ঘটনাটি কেন্দ্রটির নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও পরিচালনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা (আইসিই) সোমবার জানায়, ৪১ বছর বয়সী এডউইন লোপেজ-কর্নেখো শনিবার নিউয়ার্কের একটি হাসপাতালে মারা যান। ডেলানি হল আটককেন্দ্রে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। তবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।

আইসিইর ভাষ্য অনুযায়ী, কেন্দ্রটি পরিচালনাকারী বেসরকারি প্রতিষ্ঠান জিও গ্রুপের কর্মী এবং চিকিৎসাকর্মীরা জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দিয়ে তাঁকে হাসপাতালে পাঠান।

সরকারি নথি অনুযায়ী, ২০০৬ সালে অনুমতি ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর লোপেজ-কর্নেখো প্রথমবার আটক ও বহিষ্কৃত হন। পরে আবার যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে এলে চলতি বছরের জুনের মাঝামাঝি নিউ জার্সির প্লেইনফিল্ড এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়। আগের বহিষ্কার আদেশ কার্যকর করার অংশ হিসেবে তাঁকে ডেলানি হলে রাখা হয়েছিল।

পরিবার জানিয়েছে, তিনি ১২ বছর বয়সী এক কন্যাসন্তান রেখে গেছেন।অভিবাসী অধিকারকর্মীদের দাবি, লোপেজ-কর্নেখো ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও খিঁচুনিজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। আটককেন্দ্রে থাকার সময় তাঁকে প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হয়নি। তাঁর মা মারিয়া কর্নেখো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে বলেন, মৃত্যুর আগের দিন ছেলের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছিল। তখন ছেলে জানিয়েছিল, সে অসুস্থ বোধ করছে এবং মুখ ও হাতের এক পাশ অবশ হয়ে আসছে।

মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সোমবার ডেলানি হলের সামনে জড়ো হন বিক্ষোভকারীরা। তাঁরা লোপেজ-কর্নেখোর স্মরণে শোকপ্রহর পালন করেন এবং আটককেন্দ্রটি বন্ধের দাবি জানান।

আইসিই দাবি করেছে, তাদের হেফাজতে আসা প্রত্যেক ব্যক্তির স্বাস্থ্য পরীক্ষা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই করা হয়। দুই সপ্তাহের মধ্যে বিস্তারিত চিকিৎসা মূল্যায়ন সম্পন্ন হয় এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা সব সময়ের জন্য উন্মুক্ত থাকে। সংস্থাটির দাবি, আটক অবস্থায় লোপেজ-কর্নেখোর যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়েছিল।

এর আগে গত ডিসেম্বরে একই কেন্দ্রেই চিকিৎসাজনিত জরুরি অবস্থার পর ৪১ বছর বয়সী আরেক আটক ব্যক্তি জিন উইলসন ব্রুটাসের মৃত্যু হয়।

নিউয়ার্কের মেয়র রাস বারাকা বলেন, এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে একই কেন্দ্র থেকে আরেকটি পরিবারের এমন শোকের খবর অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তাঁর মতে, এই ঘটনা আটককেন্দ্রটির পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগের কারণ।

নিউ জার্সির গভর্নর মিকি শেরিলও মৃত্যুর ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, এটি আবারও প্রমাণ করল কেন ডেলানি হল বন্ধ করা প্রয়োজন। তিনি জানান, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহে তাঁর প্রশাসন অঙ্গরাজ্যের কংগ্রেস সদস্যদের সঙ্গে কাজ করছে।

নিউ জার্সির প্রতিনিধি রব মেনেনদেজ বলেন, ডেলানি হলের চিকিৎসাসেবার মান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ উঠছে। পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবার অভাবের বিষয়ে বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। তিনি বলেন, আইসিই এবং কেন্দ্র পরিচালনাকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সময় অভিবাসী আটক কার্যক্রম সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে গত বছর ডেলানি হল আটককেন্দ্রটি পুনরায় চালু করা হয়।

সূত্র:আলজাজিরা