নির্বাচনি আচরণ বিধিমালা প্রচার-প্রচারণার নতুন রূপ, নতুন মাধ্যম
মো. মামুন অর রশিদ
নির্বাচন কি শুধুই ক্ষমতার পালাবদলের
প্রক্রিয়া? মোটেই নয়। নির্বাচন একটি জাতির রাজনৈতিক চরিত্র, মূল্যবোধ ও গণতান্ত্রিক
চর্চার প্রতিচ্ছবি। নির্বাচনের ভাষা, আচরণ ও পরিবেশের মধ্য দিয়েই প্রতিফলিত হয় একটি
সমাজ কতটা শালীন, দায়িত্বশীল ও নিয়মতান্ত্রিক। সেই বাস্তবতা থেকেই নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণায়
এসেছে নতুন রূপ, নতুন মাধ্যম। পোস্টারহীন নির্বাচন সেই বার্তাই দিচ্ছে। এটি কেবল একটি
বিধিনিষেধ নয়; বরং আধুনিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির দিকে এগিয়ে যাওয়ার একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত।
আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে
রেখে পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ-সহ বিভিন্ন নতুন বিধিনিষেধ যুক্ত করে নির্বাচন কমিশন
আচরণ বিধিমালা প্রণয়ন করেছে। এই বিধিমালার নাম দেওয়া হয়েছে- 'সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক
দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫', যা গত ১০ নভেম্বর গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছে।
এরপর নির্বাচন কমিশন গত ১০ ডিসেম্বর বিধিমালার কয়েকটি বিধি সংশোধন করে। সংশোধিত এই
বিধিমালায় ৩১টি বিধি ও দুইটি তফসিল রয়েছে। রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীরা নির্বাচনের সময়
কী কী করতে পারবেন, আর কী কী করতে পারবেন না-সেসব বিষয় এই বিধিমালায় অন্তর্ভুক্ত করা
হয়েছে।
কোনো রাজনৈতিক দল কিংবা প্রার্থী বা
তার পক্ষে অন্য কেউ নির্বাচন-পূর্ব সময়ে (তফসিল ঘোষণার দিন থেকে নির্বাচনের ফল গেজেটে
প্রকাশ পর্যন্ত) নির্বাচনি এলাকায় বসবাসকারী কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা অন্যত্র অবস্থিত
কোনো প্রতিষ্ঠানে কোনো প্রকার চাঁদা, অনুদান বা উপহার প্রদান করতে বা প্রদানের প্রতিশ্রুতি
দিতে পারবেন না। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংগঠন থেকে সংবর্ধনা গ্রহণ
করতে পারবেন না। এছাড়া, কোনো প্রার্থী নির্বাচন-পূর্ব সময়ে কোনো সরকারি, আধা-সরকারি
ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে রাজস্ব বা উন্নয়ন তহবিলভুক্ত কোনো প্রকল্পের অনুমোদন,
ঘোষণা, ভিভিগ্রস্তর স্বাপন কিংবা ফলক উন্মোচন করতে পারবেন না। বিধি-৪
সরকারি ডাক-বাংলো, রেস্ট হাউজ, সার্কিট
হাউজ বা কোনো সরকারি কার্যালয় নির্বাচনি প্রচারের জন্য ব্যবহার করা যাবে না। বিধি-৬-এ
বলা হয়েছে, নির্বাচনি প্রচারণায় সকল প্রার্থী সমান সুযোগ পাবেন। তবে কেউ প্রতিপক্ষের
জনসভা, শোভাযাত্রা বা প্রচারণায় বাধা দিতে বা ভীতি সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারবেন না।
নির্বাচনি প্রচারণা শুরুর আগে রাজনৈতিক দল না প্রার্থীকে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে প্রচারণার
কর্মসূচি জমা দিতে হবে। একই স্থানে ও একই সময়ে একাধিক দল বা প্রার্থীর নির্বাচনি প্রচারণা
কর্মসূচির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা সমন্বয় করবে। কোনো প্রার্থী জনসভা করতে
চাইলে প্রস্তাবিত সভার কমপক্ষে ২৪ ঘণ্টা পূর্বে জনসভার স্থান ও সময় সম্পর্কে স্বনীয়
পুলিশ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে পুলিশ কর্তৃপক্ষ উক্ত স্নানে চলাচল ও
আইন-শৃঙ্খলা নিশ্চিত করবে। জনগণের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারে এমন কোনো স্থান, সড়ক,
মহাসড়ক ও জনপথে জনসভা, পথসভা কিংবা কোনো ধরনের সভা-সমাবেশ করা যাবে না। এছাড়া, কোনো
রাজনৈতিক দল বা প্রার্থী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিদেশে কোনো প্রকার জনসভা, পথসভা,
সভা-সমাবেশ অনুষ্ঠান বা কোনো প্রকার প্রচার-প্রচারণা করতে পারবেন না। বিধি-৫
বিধি-৭-এ উল্লেখ রয়েছে, নির্বাচনি প্রচারণায়
কোনো প্রকার পোস্টার ব্যবহার করা যাবে না। প্রচারণায় পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর অপচনশীল
দ্রব্য যেমন: রেক্সিন, পলিথিন, প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি কোনো প্রচারপত্র, লিফলেট বা হ্যান্ডবিল,
ফেস্টুন ও ব্যানার ব্যবহার করা যাবে না। একই সঙ্গে ব্যানার, লিফলেট বা হ্যান্ডবিল ও
ফেস্টুনে পলিথিনের আবরণ ব্যবহার করা যাবে না। কোনো প্রার্থী কিংবা তার পক্ষে অন্য কোনো
ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকায় অবস্থিত কোনো দালান, দেওয়াল, গাছ, বেড়া, বিদ্যুৎ
ও টেলিফোনের খুঁটি, সরকারি বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অ্যাপনাসমূহ এবং বাস, ট্রাক, ট্রেন,
স্টিমার, লঞ্চ, রিকশা, অটোরিকশা, লেগুনা, ট্যাক্সি, বেবিটেক্সি বা অন্য কোনো যানবাহনে
কোনো প্রকার লিফলেট বা হ্যান্ডবিল, ফেস্টুন সাঁটাইতে পারবেন না। কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী
গ্রার্থীর ফেস্টুন, ব্যানার ও বিলবোর্ডের উপর অন্য কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর ফেস্টুন,
ব্যানার ও বিলবোর্ড টাঙানো যাবে না। এছাড়া, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর ফেস্টুন, ব্যানার
ও বিলবোর্ডের কোনো প্রকার ক্ষতিসাধন তথা বিকৃতি বা বিনষ্ট করা যাবে না। ইলেকট্রনিক
ও ডিজিটাল মাধ্যম ব্যতীত নির্বাচনি প্রচারণায় ব্যবহার্য ব্যানার, লিফলেট বা হ্যান্ডবিল
ও ফেস্টুন সাদা-কালো রঙের হতে হবে। ব্যানারের দৈর্ঘ্য ১০ ফুট এবং গ্রন্থ ৪ ফুটের বেশি
হওয়া যাবে না। লিফলেট বা হ্যান্ডবিল A4 সাইজের (৮.২৭ ইঞ্চি x ১১.৬৯ ইঞ্চি) চেয়ে বড়
করা যাবে না। ফেস্টুনের দৈর্ঘ্য হবে সর্বোচ্চ ২৪ ইঞ্চি এবং গ্রন্থ হবে সর্বোচ্চ ১৮
ইঞ্চি। ব্যানার, লিফলেট বা হ্যান্ডবিল ও ফেস্টুনে প্রতীক, নিজের ছবি এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে
দলীয় প্রধানের ছবি ব্যতীত অন্য কোনো ব্যক্তির ছবি বা প্রতীক ছাপানো যাবে না। কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী
প্রার্থী বা তার পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ভোটার স্লিপ বিতরণ করতে পারবেন,
তবে তাতে প্রার্থীর নাম, ছবি, পদের নাম, প্রতীক কিংবা ভোট প্রার্থনা-সংক্রান্ত কোনো
কিছু উল্লেখ করা যাবে না। বিধি-৮ নির্বাচনি প্রচারণায় কোনো বাস, ট্রাক, নৌযান, মোটরসাইকেল
কিংবা অন্য কোনো যান্ত্রিক বাহন সহকারে কোনো মিছিল, জানসভা কিংবা কোনোরূপ শোডাউন করা
যাবে না। একই সঙ্গে নির্বাচনি প্রচারে যানবাহন সহকারে কিংবা যানবাহন ব্যতীত কোনো ধরনের
মশাল মিছিল করা যাবে না। মনোনয়নপত্র দাখিলের সময়ও কোনো প্রকার মিছিল কিংবা শোডাউন করা
যাবে না। এছাড়া, নির্বাচনি প্রচারণা এবং ভোটগ্রহণের সময় কোনো প্রকার ড্রোন, কোয়াডকপ্টার
বা এরূপ যন্ত্র ব্যবহার করা যাবে না। বিধি-
রিটার্নিং অফিসার বা সহকারী রিটার্নিং
অফিসারের নিকট মনোনয়নপত্র দাখিল বা প্রার্থীতা প্রত্যাহার করার সময় কোনো প্রকার প্রতিবন্ধকতা
সৃষ্টি করা যাবে না। বিধি-১০ কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল কিংবা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী
বা তার পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি দেওয়ালে লিখে নির্বাচনি প্রচারণা চালাতে পারবেন না
(বিধি-১১)। এছাড়া, নির্বাচনি প্রচারণায় প্রতীক হিসেবে জীবন্ত প্রাণী ব্যবহার করা যাবে
না (বিধি-১২)।
নির্বাচনি প্রচারণার জন্য কোনো রাজনৈতিক
দল কিংবা প্রার্থী বা তার পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি কোনো গেট বা তোরণ নির্মাণ করতে পারবে
না। চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী কোনো সামগ্রী যাপন বা কোনো স্থাপনা নির্মাণ করাও
যাবে না। নির্বাচনি প্রচারণায় কেউ ৪০০ বর্গফুটের অধিক যান নিয়ে কোনো প্যান্ডেল তৈরি
করতে পারবেন না। প্রচারণার অংশ হিসেবে কোনো প্রকার আলোকসজ্জাও করা যাবে না। বিধি-১৩
বিধিমালায় নির্বাচনি বিলবোর্ডের পরিমাপও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। বিলবোর্ডের দৈর্ঘ্য
হবে সর্বোচ্চ ১৬ ফুট ও গ্রন্থ সর্বোচ্চ ৯ ফুট। বিলবোর্ড অ্যাপনের ক্ষেত্রে বিধিমালায়
দুটি শর্ত উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথম শর্ত অনুযায়ী, সংসদীয় আসনের প্রত্যেক ইউনিয়ন বা
পৌরসভা অথবা মেট্রোপলিটন এলাকার ক্ষেত্রে প্রত্যেক ওয়ার্ডে একটির বেশি বিলবোর্ড ব্যবহার
করা যাবে না। দ্বিতীয় শর্তে বলা হয়েছে, সমগ্র নির্বাচনি এলাকায় ২০টির বেশি বিলবোর্ড
ব্যবহার করা যাবে না (বিধি-১৪)। উল্লেখ্য, কোনো সংসদীয় আসনের ইউনিয়ন বা পৌরসভা অথবা
মেট্রোপলিটন এলাকার ওয়ার্ড-সংখ্যা ২০টির বেশি হলে প্রথম শর্ত অনুযায়ী সেই সংসদীয় আসনে
২০টি বেশি বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে।
নির্বাচনি প্রচারণাকালে ব্যক্তিগত কুৎসা
রটনা, অশালীন ও আক্রমণাত্মক বা ব্যক্তিগত চরিত্র হনন করে বক্তব্য দেওয়া যাবে না। কোনো
ধরনের তিক্ত, উস্কানিমূলক, মানহানিকর কিংবা লিঙ্গ, সাম্প্রদায়িকতা বা ধর্মানুভূতিতে
আঘাত লাগে এমন বক্তব্যও পরিহার করতে হবে। মসজিদ, মন্দির, প্যাগোডা, গির্জা বা অন্য
কোনো ধর্মীয় উপাসনালয় এবং কোনো সরকারি অফিস বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো প্রকার নির্বাচনি
প্রচারণা চালানো যাবে না। কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পক্ষে বা বিপক্ষে ভোটারদের
প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে কেউ কোনো প্রকার বলপ্রয়োগ বা অর্থ ব্যয় করতে পারবেন না। ভোটকেন্দ্রের
নির্ধারিত চৌহদ্দির মধ্যে নির্বাচন কমিশনের অনুমোদিত কোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ ব্যতীত
অন্য কেউ কোনো ধরনের অস্ত্র কিংবা লাঠি বা দেশীয় কোনো ধারালো বা ভোঁতা অস্ত্র বহন করতে
পারবেন না। বিধি-১৫ অনলাইন প্রচারণার ক্ষেত্রে কোনো প্রার্থী কিংবা তার নির্বাচনি এজেন্ট
অথবা সংশ্লিষ্ট কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে নির্বাচনি প্রচারণা করতে পারবেন
(বিধি-১৬)। সেক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নাম, অ্যাকাউন্ট আইডি, ইমেইল-সহ অন্যান্য
শনাক্তকরণ তথ্য প্রচার-প্রচারণা শুরুর পূর্বে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দিতে হবে।
সত্যতা যাচাই ব্যতিরেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্বাচন-সংক্রান্ত কোনো কনটেস্ট শেয়ার
ও প্রকাশ করা যাবে না। প্রচার-প্রচারণাসহ নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট কোনো বিষয়ে অসৎ উদ্দেশ্যে
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করা যাবে না। এছাড়া, ঘৃণাত্মক বক্তব্য, ভুল তথ্য,
কারও চেহারা বিকৃত করা ও নির্বাচন-সংক্রান্ত বানোয়াট তথ্যসহ কোনো প্রকার ক্ষতিকর কনটেন্ট
(আধেয়) তৈরি ও প্রচার করা যাবে না।
কোনো নির্বাচনি এলাকার একক কোনো জনসভায়
একইসঙ্গে ৩টির বেশি মাইক্রোফোন বা লাউড স্পিকার ব্যবহার করা যাবে না। তবে সাধারণ প্রচারণায়
মাইক্রোফোন বা লাউড স্পিকার ব্যবহারের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য হবে না। নির্বাচনি প্রচারণায়
মাইক বা শব্দের মাত্রা বর্ধনকারী অন্যান্য যন্ত্রের ব্যবহার দুপুর ২টা হতে রাত ৮টার
মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। নির্বাচনি প্রচারকার্যে ব্যবহৃত মাইক বা শব্দ বর্ধনকারী
যন্ত্রের শব্দের মানমাত্রা ৬০ ডেসিবেলের অধিক হওয়া যাবে না। বিধি-১৭ ভোটগ্রহণের জন্য
নির্ধারিত দিনের তিন সপ্তাহ পূর্বে কোনো প্রকার নিবাচনি প্রচার শুরু করা যাবে না। এছাড়া,
ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার ৪৮ ঘণ্টা পূর্বে নির্বাচনি প্রচারণা সমাপ্ত করতে হবে (বিধি-১৮)।
ভোটগ্রহণ সমাপ্তির পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নির্বাচনি এলাকায় ব্যবহৃত নিজ নিজ প্রচারণা
সামগ্রী প্রার্থীকে নিজ দায়িত্বে অপসারণ করতে হবে (বিধি-১৯)।
সরকারি সুবিধাভোগী অতি গুরুত্বপূর্ণ
ব্যক্তিগণ তাদের সরকারি কর্মসূচির সঙ্গে কোনো নির্বাচনি কর্মসূচি বা কর্মকান্ড যোগ
করতে পারবেন না। সরকারি সুবিধাভোগী অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের তালিকায় এবার অন্তর্বর্তীকালীন
সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যগণকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে
তাঁরা কোনো প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন না।বিধি-২০ কোনো নিবন্ধিত
রাজনৈতিক দল কিংবা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বা তার পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি নির্বাচনি
কাজে সরকারি প্রচারযন্ত্রের ব্যবহার, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীগণকে ব্যবহার বা কোনোরূপ
সরকারি সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন না (বিধি-২১)।
কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী গণপ্রতিনিধিত্ব
আদেশ, ১৯৭২-এ নির্ধারিত ব্যয়সীমা অতিক্রম করতে পারবেন না। নির্বাচনি ব্যয় রাজনৈতিক
দলের ক্ষেত্রে ৫০ হাজার টাকা এবং প্রার্থীর ক্ষেত্রে ২০ হাজার টাকার ঊর্ধ্বে হলে তা
বাধ্যতামূলকভাবে ব্যাংকিং মাধ্যমে সম্পাদন করতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্বাচনি
প্রচারণা বাবদ ব্যয়সমূহ প্রার্থীদের নির্বাচনি ব্যয়সীমার অন্তর্ভুক্ত হবে। সামাজিক
যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার-প্রচারণায় বিদেশি অর্থায়নে বিজ্ঞাপন প্রদান বা প্রচারণা কার্যক্রম
পরিচালনা করা যাবে না (বিধি-২২)। ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনি কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রতিদ্বন্দ্বী
প্রার্থী, নির্বাচনি এজেন্ট, পোলিং এজেন্ট, নির্বাচনি পর্যবেক্ষক, নির্বাচন কমিশন কর্তৃক
অনুমোদিত ব্যক্তিবর্গ এবং ভোটারদের প্রবেশাধিকার থাকবে। ভোট প্রদানের উদ্দেশ্য ব্যতীত
কোনো রাজনৈতিক দলের বা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর কর্মীগণ ভোটকেন্দ্রের অভ্যন্তরে প্রবেশ
বা ঘুরাঘুরি করতে পারবেন না (বিধি-২৩)। প্রতীক বরাদ্দের পর পারস্পারিক সম্প্রীতি ও
সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচনি প্রচারণার উদ্দেশ্যে রিটার্নিং অফিসার বা সহকারী রিটার্নিং
অফিসার একই মঞ্চে সকল প্রার্থীদের উপস্থিতিতে তাঁদের নিবাচনি ইশতেহার পাঠ এবং আচরণবিধি
প্রতিপালনের ঘোষণা প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন। বিধি-২৪
(সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর
আচরণ বিধিমালা, ২০২৫) লঙ্ঘনের শাস্তির বিষয় উল্লেখ রয়েছে। কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে
অন্য কোনো ব্যক্তি নির্বাচন-পূর্ব সময়ে বিধিমালার কোনো বিধান লঙ্ঘন করলে তা অপরাধ হিসেবে
গণ্য হবে। এই অপরাধে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অনধিক ৬ মাসের কারাদন্ড অথবা অনধিক ১ লক্ষ ৫০
হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দন্ডনীয় হবেন। এছাড়া, কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল
নির্বাচন-পূর্ব সময়ে বিধিমালার কোনো বিধান লঙ্ঘন করিলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এই
অপরাদের জন্য উক্ত রাজনৈতিক দল অনধিক ১ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হবে। নির্বাচনি
আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে নির্বাচন কমিশন তদন্তপূর্বক সংশ্লিষ্ট প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর
প্রার্থিতা বাতিল করতে পারবে। বিধি-২৭ রাজনৈতিক দল ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী যাতে
আচরণ বিধি মেনে চলে সেজন্য আচরণ বিধিমালায় অঙ্গীকারনামা প্রদানের বাধ্যবাধকতা রাখা
হয়েছে। আচরণ বিধিমালায় এ-সংক্রান্ত দুটি তফসিল যুক্ত করা হয়েছে।
নির্বাচনি আচরণ বিধিমালা কেবল নিষেধাজ্ঞা-সক্রান্ত
কোনো তালিকা নয়; এটি দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে আরও শালীন ও দায়িত্বশীল করার একটি প্রয়াস।
নির্বাচনি ব্যবস্থাকে সময়োপযোগী ও আধুনিক করতে এতে বেশ কিছু নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
সংযোজন করা হয়েছে। প্রশাসন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষ যদি বিধিমালার
প্রতি আন্তরিক থাকেন, তাহলে এর কার্যকর প্রয়োগ সম্ভব হবে। সকল অংশীজনের সহযোগিতায় আসন্ন
সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একটি গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য গণতান্ত্রিক আয়োজন হিসেবে প্রতিষ্ঠা
পাবে-এমনটাই প্রত্যাশা।