সংবাদ শিরোনাম

ঋতু পরিবর্তনে শিশুর নিউমোনিয়া

 প্রকাশ: ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৩:৫৭ অপরাহ্ন   |   সম্পাদকীয়

ঋতু পরিবর্তনে শিশুর নিউমোনিয়া

সেলিনা আজার

শীতে শিশুর শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কিওলাইটিসসহ বিভিন্ন ধরনের শ্বাসতন্ত্রের রোগ দেখা দিতে পায়ে। নিউমোনিয়া বা ফুসফুসের প্রদাহ মারাত্মক রোগ। এ রোগ যে কোনো বয়সেই হতে পারে। তবে শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে বেশি দেখা দেয়।

মানবদেহের একটি অত্যাবশ্যকীয় অঙ্গ হয়ে ফুসফুস। আমরা শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণ ও ত্যাগ করি ফুসফুসের সাহায্যে। ফুসফুসের এক ধরনের ইনফেকশনের নাম নিউমোনিয়া। এটি সাধায়নত স্বাসভয়ের প্রদাহের জন্য হয়ে থাকে। এই প্রদাহ যখন জীবানুঘটিত যা সংক্রমণজনিত জায়ান দেখা দেয়, তখন এটিয়ো নিউমোনিয়া বলে। এ রোগের প্রধান কারন ঠান্ডা এবং ব্যাজটেরিয়া, মডান ও ভাইরাসের সংক্রমণ। নিউমোনিয়ায় অক্রোয় শিশুদের ফুসফুসে পুঁজ ও তরল পদার্থ জমে তাদের শ্বাস নিতে বাধা দেয়। সব সর্দি-আশিই সিউমোনিয়া ন্যা। জয়ের সঙ্গে কফ ও খাসফট থাকলে স্বাসভত্রে প্রদাহ হয়েছে বলে ধরা হয়। শীতে শিশু ও ব্যাঙ্ক ব্যক্তিদের মৃত্যুর অন্যতম কারণ এই নিউমোনিয়া। যেসব শিশু পুষ্টিহীনতায় ভুগমে তারা নিউমোনিয়া ও শ্বাসতন্ত্রের রোগে বেশি আক্রান্ত হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, নিউমোনিয়া শিশুদের জন্য একটি মারাত্মক প্রানঘাতী রোগ। নিউমোনিয়াকে বলা হয় শিশুমৃত্যুর নীরব ঘাতক। এ রোগ সম্পর্কে জামাদের এখনও সচেতনতা কম। নিউমোনিয়ায় শিশুমৃত্যু রোধে সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক শিশুর মৃত্যু ঘটে নিউমোনিয়া।

আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশের (আইসিডিডিআর'বি) তথ্যমতে, এখনো প্রতি হাজার নবজাতকের মাধ্য প্রায় ৭ দশমিক ৪ জন শিশু নিউমোনিয়ায় প্রাণ হারাচ্ছে। আক্রান্তদের মারাত্মক নিউমোনিয়ায় ভোগা ১২ শতাংশের রক্তে অক্সিজেনের ঘাটতি (হাইগঞ্জে মিয়া) যাকে, যা এ রোগের মৃত্যুহার বেশি হওয়ায় অন্যতম বড়ো কারব। এই রোগের ফলে প্রতিবার প্রায় ৭ লাখ শিশুর মৃত্যু হয়, যা পাঁচ বদরের কম আমি শিশুদের ক্ষেত্রে মোট মৃত্যুর ১৫ শতাংশ। প্রতি ঘন্টায় আনুমানিক দু-তিনটি শিশু নিউমোনিয়ায় মায়া যায় এবং বয়রে প্রায় ২৫ হাজার শিশুর মৃত্যু হয়। এটি পাঁচ সদরের যম বয়সি শিশুদের মধ্যে ২৫ শতাংশ মৃত্যুর জন্য বারী। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশের এ গড় বিশ্বযাগী হিসাবের চেয়ে বেশি। কারন বাংলাদেশের শিশুদের নিউমোনিয়ায় কারনগুলো বৈশ্বিক পরিস্থিতি থেকে আনকটাই আলাদা।

নিউমোনিয়ার উপসর্গগুলোর মধ্যে রয়েছে স্বাভাবিক অবস্থায় চেয়ে শিশুর ঘনঘন খাস নেওয়া, খাস নেওয়ার সময় বুফেয় নিচের অংশ দেবে যাওয়া, শ্বাস নেওয়ার সময় বাঁশির মতো সাঁই-সই আওয়াজ পরিবর্তন হওয়া, কাশি বেশি হওয়া, শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়া ও খিঁচুনি হওয়া। শূন্য থেকে দুই মাস বয়সের শিশুর প্রতি মিনিটে ৬০ বা তার চেয়ে বেশিয়ায় শ্বাস নেওয়াং দুই থেকে ১২ মাস বয়াদি শিশুর প্রতি মিনিটে ৬০ বা তার চেয়ে বেশি খাম নেওয়া এবং ১২ মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সি শিশু প্রতি মিনিটে ১০ বা তার চেয়ে বেশিবায় শ্বাস নেওয়াকে অস্বাভাবিক অবস্থা বোয়ায়। এ-জাতীয় লক্ষন শিশুর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

পুষ্টিহীনতাও শিশুর নিউমোনিয়া আক্রান্ত হওয়ার অন্যতম কারণ। নিউমোনিয়া প্রতিরোধে হয় মাস বয়স পর্যন্ত শিশুকে শুধু মায়ের বুকের দুধ খাওয়াতে হবে এবং প্রতিটি শিশুকে জন্মের প্রথম ঘণ্টায় মায়ের বুকের শালদুখ খেতে দিতে হবে। এতে নিউমোনিয়াসহ ঠান্ডাজনিত অনেয় রোগ থেকে শিশুকে রক্ষা করা সম্ভব।

যে শিশুর বয়স হয় মাসের বেশি, তাদের যদি বুকের দুধের পাশাপাশি বাড়তি খাবার হিসেবে দেশীয় খাবার, যেমন-খিচুড়ি, দেশি ফলমূল, পারসবজি দেওয়া হয়, তবে খামারের মাধ্যামে শিশুর পুষ্টি ঠিক রাখা যায়। নিউমোনিয়ায় কিছু অ্যাকসিন বেয় হয়েছে। ভ্যাকসিনগুলো যাবি সম্যামতো নেওয়া যায়, তাহলে যায়টেরিয়া যা ভাইরাসজনিত নিউমোনিয়া প্রতিরোধ করা যায়। এ ক্ষেত্রে অবশ্যই ঢাজারের পরামর্শ নিতে হবে।সুস্থ শিশুকে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশু থেকে দূরে রাখতে হবে। প্রয়োজনে শীতের। সম্যাটিতে শিশুকে গরম কাপড়ের পাশাপাশি মুখে মাজ পরাতে হবে। ধুলাবালি মেদে শিশুকে দূরে রাখতে হবে।সয় সময় পরিষ্কার-পরিযগ্রতা বজায় রাখতে হবে। বাইরে থেকে এসে হাত-মুখ সাবান দিয়ে ধুয়ে ফেলা। এ ছাড়া খাবার খাওয়ার আগে অবশ্যই হাত বুজে হবে। শীতকালে শিশুকে নিয়ে শপিংমল, সিনেমা হল এবং যাস ভ্রমণ ইত্যাদি এড়িয়ে চলা উঠিত। শীতে শিশুকে নিউমোনিয়ায় হাত থেকে বাঁচাতে গোসলের সময় কুসুম গরম পানি ব্যবহার করতে হবে। গোসলের সময় স্যাভলন, ডেটল যা এ ধরনের জীবানুনাশরা দেওয়া উচিত নয়। শীতে শিশুতে গোসল করানোর পর ফোমল টাওয়েল নিয়ে শরীয় মোমায় পর অলিভ অয়েল ও ফিটামিন-ই সমৃ তেল গায়ে মাখা যেতে পারেন। তবে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে, শরীরে ব্যাবহৃত তেল বা লোশন যেন সুগন্ধি, অ্যালকোহল এবং অন্যানা কেমিক্যালমুর হয়। শীতে শিশুর ডায়াপার ঘন ঘন পরিবর্তন করতে হবে। ভেজা মায়াপার দীর্ঘক্ষন পরে থাকলে শিশুর অ্যালার্জির সমস্যাও হতে পারে। ঠান্ডা লেগে অনেক সময় শিশুর নাক বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে 'নরমল নামাল ঢপ দিনে চার থেকে ছয় বার খাবারও ঘুমের আগে দেওয়া যেতে পারে। নয়েম্বর, ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে শীত বেশি যায়ে বলে এ সময় নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ায় সংখ্যা অনেক বেশি হয়। তবে বহরের অন্যান্য সময়েও শিশু নিউমোনিয়া আক্রান্ত হয়ে থাকে।

নিউমোনিয়া রোগ প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ করাই উত্তম। সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা পেলে শিশুর মৃত্যুঝুঁকি অর্থেক কমানো সম্ভব। নিউমোনিয়া রোগের লক্ষণগুলো অপার্কে যদি বাবা-মায়ের ধারণা থাকে এবং সে অনুসারে চিকিৎসকের কাছে বেওয়া হ্যা, আহলে শিশুকে সহজেই সুস্থ করে তোলা সম্ভব। এতে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুর মৃত্যুহারও যুত কমিয়ে আমা সম্ভব।নিউমোনিয়ায় চিকিৎসা নিতে দেরি করার পেছনে অয়ক তিনটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, শিশুর পরিচর্যাকারীরা নিউমোনিয়ায় বিপদ চিহ্ন ও উপসর্গগুলো চিনতে পারেন না এবং যতক্ষন পর্যন্ত না রোগটা পরবর্তী জটিল অবস্থায় পৌঁছে যায় ততক্ষন চিকিৎসাসেবা নিতে যান না। উপরন্তু রোগটা চিনতে না পারলেও প্রাতিষ্ঠানিয় চিকিৎসা নেয়ার আগ পর্যন্ত মায়েরা ঘরোয়া চিকিৎসা প্রয়োগ করতে থাকে। এগুলো যখন বিফল হয় তখন অপেশাদার স্বাস্থাকর্মীর পরামর্শ নেয়, যারা আসলে নিউমোনিয়ার যথাযথ ব্যবস্থা দিতে অপারগ। এর বাইরে সামাজিক রীতিনীতি মায়েয়দের সেই স্বাধীনতাটুকু দেয় না যে আরা সংসারের সিয়ায় দেয়া ব্যক্তি যেমন স্বামী বা শাশুড়ি এদের অনুমতি না নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক চিকিৎসাসেবা দিতে যাবে।।

সচেতনতা শিশুর রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই মা-বাবাকেই শিশুর স্বাস্থ্যের প্রতি। পরিবারের সচেতনতার মধ্যেই নিউমোনিয়া আক্তার শিশুর মৃত্যু রোধ করা সম্ভব। হতে হবে।