শিশু শ্রম: বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিস্থিতি
আবদুল মালেক:
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)-র
মতে, শিশুশ্রম হলো এমন ধরনের কাজ, যা একটি শিশুর বয়স এবং কাজের প্রকৃতি অনুসারে নির্ধারিত
ন্যূনতম সময়সীমা অতিক্রম করে। আইএলও শিশুদের কর্মসংস্থানকে তিনটি বিভাগে ভাগ করেছে:
অর্থনৈতিকভাবে সক্রিয় শিশু, শিশুশ্রম এবং বিপজ্জনক কাজ। ১২ বছরের কম বয়সী শিশুদের দ্বারা
কোনো কাজ করানো কিংবা শিশুদের বিপজ্জনক কাজে নিযুক্ত করা হলে, তা শিশুশ্রম হিসেবে বিবেচিত
হয়। শিশুরা যদি এমন কোনো কার্যকলাপে জড়িত থাকে যা তাদের শারীরিক, মানসিক, সামাজিক বা
নৈতিক বিকাশে ক্ষতি করে অথবা নিরাপত্তার জন্য হমকি সৃষ্টি করে, তাহলে সেই কাজকে বিপজ্জনক
হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়। ইউনিসেফ শিশুশ্রমকে এমন একটি কার্যকলাপ হিসেবে সংজ্ঞায়িত
করেছে, যা শিশুর স্বাস্থ্য ও শিক্ষাকে বিঘ্নিত করে, শৈশব থেকে তাকে বঞ্চিত করে এবং
শোষণ ও অপব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি করে। আন্তর্জাতিক কর্মসূচি 'ইন্টারন্যাশনাল প্রোগ্রাম
অন দ্য এলিমিনেশন অব চাইল্ড লেবার' অর্থনৈতিকভাবে সক্রিয় শিশুদের সংজ্ঞায়িত করে গ্রামীণ
ও শহরাঞ্চলের আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক খাতে বেতনভুক্ত এবং অবৈতনিক কর্মে নিযুক্ত
শিশুদের অন্তর্ভুক্ত করে, যদিও নিজ পরিবারের জন্য কাজ করা শিশুদের এই সংজ্ঞা থেকে বাদ
দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশে শিশুশ্রম দুটি খাতে বিস্তৃত
রয়েছে- আনুষ্ঠানিক খাতে যেমন শিল্পকারখানা, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, যোগাযোগ ও পরিবহণ
ব্যবস্থা, জাহাজ ভাঙা প্রভৃতি; এবং অনানুষ্ঠানিক খাতে যেমন কৃষিকাজ, পশুপালন, মৎস্য
শিকার ও চাষ, গৃহস্থালি কাজ, নির্মাণ, ইটভাঙা, রিকশা বা ভ্যান চালানো, দিনমজুরি ও ছিন্নমূল
শিশুদের বিভিন্ন কর্মে সম্পৃক্ততা। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ৫-১৪ বছর বয়সী শিশুদের
যারা বেতন বা অবৈতনিক উভয় ক্ষেত্রে এক বা একাধিক ঘণ্টা (প্রতি সপ্তাহে) কাজ করে, তাদের
শিশুশ্রমিক হিসেবে বিবেচনা করে। ১০ বছরের বেশি বয়সী শিশুদের জন্য, যেকোনো অর্থনৈতিক
কার্যকলাপকে শিশুশ্রম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। গৃহস্থালির ভিতরে এবং বাইরে উভয় কাজ শিশুশ্রমে
অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ অনুযায়ী শিশু
ও কিশোরদের সংজ্ঞা নির্ধারণ করতে গিয়ে ন্যূনতম বয়স নির্ধারণ করা হয়েছে যথাক্রমে ১৪
বছর এবং ১৪-১৮ বছর। এই আইনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, চিকিৎসকের প্রত্যয়নপত্র ব্যতিরেকে
১৪ বছরের কম বয়সী কোনো শিশু বা কিশোরকে কাজে নিয়োগ দেওয়া যাবে না। ১৪-১৮ বছর বয়সীদের
কোন ধরনের শ্রমে এবং কত কর্মঘন্টায় জন্য নিয়োগ দেওয়া যাবে তা-ও সুস্পষ্টভাবে এই আইনে
উল্লেখ করা হয়েছে। এই আইনে আরও বলা হযেছে যে, ১২ বছর বয়সী শিশু কিশোরদের কেবল মাত্র
সে ধরনের হালকা কাজেই নিয়োগ করা যাবে, যেখানে তাদের শারীরিক ও মানসিক কোন ক্ষতি হবে
না এবং যা তাদের শিক্ষা গ্রহণকে বিঘ্নিত করবে না।
বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ৩৪
অনুযায়ী, কোনো শিশু বা কিশোরকে এমন কোনো পেশায় বা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দেওয়া যাবে না
বা কাজ করতে দেওয়া যাবে না, যদি না নির্ধারিত নিয়ম অনুসারে একজন রেজিস্টার্ড চিকিৎসক
কর্তৃক প্রদত্ত সক্ষমতার প্রত্যয়নপত্র মালিকের হেফাজতে থাকে এবং কাজের সময় সেই কিশোর
উক্ত প্রত্যয়নপত্রের উল্লেখসহ একটি টোকেন বহন করে। তবে যদি কিশোরটি শিক্ষানবিশ হিসেবে
বা বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে নিয়োজিত থাকে, তাহলে এই বিধান প্রযোজ্য হবে না।
এছাড়াও, সরকার কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে জনস্বার্থে মনে করলে সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন
জারির মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এই ধারা প্রয়োগ স্থগিত রাখতে পারে।
এছাড়াও ধারা ৩৪ এ বলা আছে, কোন শিশুর
মাতা-পিতা বা অভিভাবক শিশুকে কোন কাজে নিয়োগের অনুমতি প্রদান করিয়া কাহারও সহিত কোন
চুক্তি করিতে পারবেন না। ধারা ৩৯ এ বলা আছে সরকার কর্তৃক ঘোষিত ঝুঁকিপূর্ণ কাজে কোন
কিশোরকে নিয়োগ করা যাবে না। কোন প্রতিষ্ঠানের যন্ত্রপাতি চালু অবস্থায় উহা পরিষ্কারের
জন্য, উহাতে তেল প্রদানের জন্য না উহাকে সুবিন্যস্ত করার জন্য বা উক্ত চালু যন্ত্রপাতির
ঘূর্ণায়মান অংশগুলির মাঝখানে অথবা স্থির এবং ঘূর্ণায়মান অংশগুলির মাঝখানে কোন কিশোরকে
কাজ করতে অনুমতি দেওয়া যাবে না। কিশোর শ্রমিকদের কোনো কারখানা বা খনিতে দিনে পাঁচ ঘণ্টার
বেশি এবং সপ্তাহে ৩০ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে কাজ করানো যাবে না। অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের
ক্ষেত্রে একজন কিশোর শ্রমিককে দিনে সর্বোচ্চ সাত ঘণ্টা এবং সপ্তাহে সর্বোচ্চ ৪২ ঘণ্টা
কাজের কথা বলা হয়েছে। তাদেরকে সন্ধ্যা ৭টা থেকে সকাল ৭টার মধ্যবর্তী সময়ে কোনো কাজ
করানো যাবে না। আইনের ২৮৪ ধারা অনুযায়ী কোন ব্যক্তি কোন শিশু বা কিশোরকে চাকুরিতে নিযুক্ত
করলে, অথবা এই আইনের কোন বিধান লঙ্ঘন করে কোন শিশু বা কিশোরকে চাকুরি করবার অনুমতি
দিলে, তিনি পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ডে দন্ডনীয় হইবে।
আইএলও এর মতে বিশ্বে ১৬০ মিলিয়ন শিশু
শ্রমিক আছে। এর মধ্যে ৭৫ মিলিয়ন শিশু ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমে নিয়োজিত। ৯৭মিলিয়ন ছেলে শিশু
এবং ৬৩ মিলিয়ন মেয়ে শিশু শ্রমিক হিসেবে কাজ করছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর শিশুশ্রম
জরিপের তথ্য মতে, শ্রমশক্তিতে শিশু রয়েছে সাড়ে ৩৪ লাখ। এর মধ্যে ১২ লাখ ৮০ হাজার শিশু
ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমে নিয়োজিত। ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত শিশুদের ৯০ শতাংশের বেশি কাজ করে
অনানুষ্ঠানিক খাতে। কৃষিতে ৫৬ দশমিক ৪ শতাংশ, সেবা খাতে ২৫ দশমিক ৯ শতাংশ এবং শিল্পে
১৭ দশমিক ৭ শতাংশ শিশু নিয়োজিত। দেশে শিশু শ্রমিকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭ লাখে। ৫ থেকে
১৭ বছর বয়সি এ শিশুরা পূর্ণকালীন শ্রমিক হিসেবে কাজ করছে। আর্থিক অনটন ছাড়াও পরিবারের
সহযোগী হয়ে তারা শ্রম দিতে বাধ্য হচ্ছে। দেশে ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সের মধ্যে যে শিশুরা
সপ্তাহে এক ঘণ্টার বেশি কর্মে নিয়োজিত থাকে তাদের সংখ্যা প্রায় ৩৪ লাখ ৫০ হাজার। গৃহস্থালির
কাজে নিয়োজিত শিশুদের সম্পর্কে তথ্য সহজলভ্য নয়। গৃহস্থালির কাজে নিয়োজিত এমন শিশুদের
মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশই মেয়ে। এদেরকে সপ্তাহে সাতদিনই দীর্ঘসময় ধরে কাজ করতে হয়।
ঝুঁকিপূর্ণ কাজ থেকে শিশুদের সরিয়ে
আনার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) কনভেনশন-১৩৮ অনুস্বাক্ষর
করেছে এবং এর বাস্তবায়নে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকার জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদ, আইএলও কনভেনশন-১৮২ সহ শ্রমসংক্রান্ত
মোট ৩৩টি কনভেনশন অনুসমর্থন করেছে। সরকার ও মালিকপক্ষের বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে দেশের
প্রাতিষ্ঠানিক খাতগুলোকে উল্লেখযোগ্যভাবে শিশুশ্রমমুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। তবে কৃষি
এবং অন্যান্য অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে এখনও শিশুদের শ্রমে নিযুক্ত থাকার হার অনেক বেশি।
শিশুশ্রম নিরসনে সরকার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এ লক্ষ্যে
ইতোমধ্যে বিভিন্ন কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বিভিন্ন আইন ও নীতিমালার মাধ্যমে শিশুশ্রম
নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২২ সালের শিশুশ্রম সমীক্ষা অনুযায়ী,
বর্তমানে দেশে প্রায় ১ দশমিক ৭৭ মিলিয়ন শিশু শ্রমে নিয়োজিত, যার মধ্যে প্রায় এক মিলিয়ন
শিশু ঝুঁকিপূর্ণ কাজে যুক্ত। এই ঝুঁকিপূর্ণ কাজ থেকে শিশুদের সরিয়ে আনার লক্ষ্যে সরকার
২০১০ সালে 'জাতীয় শিশুশ্রম নিরসন নীতি" প্রণয়ন করে। এই নীতির আলোকে ২০২১-২০২৫
মেয়াদে বাস্তবায়নের জন্য "ন্যাশনাল প্ল্যান অব অ্যাকশন" গ্রহণ করা হয়েছে।
এর বাস্তবায়নে জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে গঠিত হয়েছে জাতীয় শিশুশ্রম কল্যাণ পরিষদ, বিভাগীয়
শিশুশ্রম কল্যাণ পরিষদ, জেলা শিশুশ্রম পরিবীক্ষণ কমিটি এবং উপজেলা শিশুশ্রম পরিবীক্ষণ
কমিটি। এসব কমিটির মাধ্যমে বিভিন্ন উপজেলায় সচেতনতামূলক সভা, সেমিনার ও কর্মশালার আয়োজন
অব্যাহত রয়েছে, যা শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সার্বিক তত্ত্বাবধানে পরিচালিত
হচ্ছে।
শিশুদের শারীরিক, মানসিক ও নৈতিক বিকাশে
অন্তরায় সৃষ্টি করে এমন ৩৮টি ঝুঁকিপূর্ণ কাজের তালিকার সাথে আরও ৫টি কাজ অন্তর্ভুক্ত
করে মোট ৪৩টি ঝুঁকিপূর্ণ কাজের তালিকা ২০২২ সালের ২৯ এপ্রিল গেজেট আকারে প্রকাশ করা
হয়েছে। ইতোমধ্যে ছয়টি শিল্প খাত- ট্যানারি, রপ্তানিমুখী চামড়াজাত দ্রব্য ও পাদুকা শিল্প,
জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ, সিল্ক, সিরামিক এবং কাঁচ- আনুষ্ঠানিকভাবে শিশুশ্রম মুক্ত
ঘোষণা করা হয়েছে। এর আগেই গার্মেন্টস শিল্প ও চিংড়ি প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতকে ঝুঁকিপূর্ণ
শিশুশ্রম মুক্ত ঘোষণা করা হয়। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের রাজস্ব খাতভুক্ত নারী
ও শিশুশ্রম শাখা দেশে শিশুশ্রম নিরসন সংক্রান্ত সকল নীতি ও কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে
সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করছে। পাশাপাশি, মন্ত্রণালয়াধীন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন
অধিদপ্তরের পরিদর্শকগণ নিয়মিতভাবে শিশুশ্রম সংক্রান্ত কার্যক্রম তদারকি ও পর্যবেক্ষণ
করে থাকেন।
'গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতি-২০১৫'
অনুযায়ী, ১৪ বছরের নিচে কোনো শিশুকে গৃহকর্মে নিযুক্ত করা যাবে না। তবে বাস্তবতা হলো,
এই নীতিমালা দারিদ্র্যের চাপে কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে না। বর্তমানে দেশে শিশুশ্রমের
প্রায় ৯৪ শতাংশই অনানুষ্ঠানিক খাতে সংঘটিত হচ্ছে, যেখানে দরিদ্র শিশুরা গৃহস্থালি কাজ,
রেস্তোরাঁ, ছোট কারখানা, কৃষিকাজ, ভিক্ষাবৃত্তি, পরিবহণ, নির্মাণ শ্রমিকতা এবং বিভিন্ন
সেবামূলক পেশায় নিয়োজিত রয়েছে। কারখানা আইনেও শিশুশ্রম নিষিদ্ধ এবং এ ধরনের নিয়োগে
অর্থদন্ডের বিধান রয়েছে। তবুও বাংলাদেশের আর্থসামাজিক বাস্তবতা, বিশেষত চরম দারিদ্রদ্র্য,
শিশুশ্রম বিস্তারের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সম্প্রতি ৪৫ সদস্যবিশিষ্ট জাতীয় শিশুশ্রম
কল্যাণ পরিষদ পুনর্গঠন করা হয়েছে, যার দায়িত্ব দেশের সার্বিক শিশুশ্রম পরিস্থিতি বিশ্লেষণ
ও পর্যালোচনা করা। এই পরিষদ জাতীয় শিশুশ্রম নিরসন নীতি, ২০১০ এবং সংশ্লিষ্ট জাতীয় কর্মপরিকল্পনার
সফল বাস্তবায়নে পরামর্শ প্রদান, প্রতিকূল শিশুশ্রম পরিস্থিতি মোকাবিলায় দিকনির্দেশনা
প্রদান, এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার কার্যক্রম সমন্বয়ের কাজ করবে। পাশাপাশি,
জাতীয় কর্মপরিকল্পনায় বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়নের দায়িত্বও এই পরিষদের ওপর নাস্ত।
এ ছাড়া, বিভাগীয় শিশুশ্রম কল্যাণ পরিষদ, জেলা ও উপজেলা শিশুশ্রম পরিবীক্ষণ কমিটিগুলোর
কার্যক্রমও এই পরিষদের অধীনে তদারকি করা হবে।
মোটকথা, শিশুশ্রম কেবল বাংলাদেশের সমস্যা
নয়; এটি বৈশ্বিক একটি পুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ, যা শুধু আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগের মাধ্যমে
সমাধান করা সম্ভব নয়। এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে প্রয়োজন সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন,
টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং সকল শিশুর জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণ। বাংলাদেশসহ
বিশ্বের প্রতিটি দেশের উচিত এ সংকট মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থা ও সংগঠনের সঙ্গে
আন্তরিকভাবে কাজ করা, যাতে প্রতিটি শিশু তার শৈশবের অধিকার ফিরে পায় এবং একটি নিরাপদ
ও সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারে।