জাতিসংঘে ভাষণ, ব্যস্ত সূচিতে তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফর
ছবি-সংগৃহীতঅনলাইন ডেস্ক:
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরে সাধারণ বিতর্কে ভাষণ দেওয়ার পাশাপাশি একাধিক দেশের সরকারপ্রধান ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। জলবায়ু, রোহিঙ্গা সংকট, মানবিক সহায়তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে একাধিক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল রয়েছে। সোমবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় টার্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তিনি নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। সেখানে তাঁকে স্বাগত জানান জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি এবং যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত।
আজ শুরু হচ্ছে ব্যস্ত কর্মসূচি
মঙ্গলবার সকালে জাতিসংঘ মহাসচিব আয়োজিত প্রতিনিধিদলের প্রধানদের স্বাগত প্রাতরাশে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে যোগ দেবেন তিনি।
দিনভর একাধিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকও রয়েছে তাঁর। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠকের সময় নির্ধারণের কাজ চলছিল। মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্ট, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে ও হাইতির প্রধানমন্ত্রী অ্যালিক্স দিদিয়ের ফিলজ-এমের সঙ্গেও বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে।
বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গার সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত জুলি বিশপের সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে তাঁর। বিকেলে ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তার সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি।
জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালেহ এবং মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্কের সঙ্গেও পৃথক বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
সন্ধ্যায় জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আয়োজিত সংবর্ধনায় স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানকে নিয়ে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।
রোহিঙ্গা সংকট ও জলবায়ু নিয়ে আলোচনা
বুধবার সকালে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে আন্তর্জাতিক দাতব্য ও মানবিক সহায়তা সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠকে অংশ নেওয়ার সম্ভাব্য কর্মসূচি রয়েছে। গেটস ফাউন্ডেশন, ভিসা ফাউন্ডেশন, রকফেলার ফাউন্ডেশন, ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি ও রোটারি ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নিতে পারেন।
পরে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আয়োজিত একটি উচ্চপর্যায়ের পার্শ্ব-অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। দীর্ঘদিন ধরে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য টেকসই সমাধান, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহির বিষয় সেখানে আলোচনায় আসবে।
এদিন চেক প্রজাতন্ত্রের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে। বিকেলে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে জলবায়ু পরিবর্তন ও ন্যায্য রূপান্তর নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেবেন তারেক রহমান।
জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান সেখানে তুলে ধরার পাশাপাশি জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, ক্ষয়ক্ষতি এবং জলবায়ু ন্যায্যতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। একই দিনে ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেই প্লেনকোভিচের সঙ্গে বৈঠকের কর্মসূচিও রয়েছে।
২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে ভাষণ
বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিগুলোর একটি। এদিন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান।
এর আগে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট হুমকি মোকাবিলায় আয়োজিত একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে উদ্বোধনী বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশের অবস্থানও সেখানে তুলে ধরবেন তিনি।
এদিন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন তারেক রহমান। মাতৃ ও নবজাতকের প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যু কমাতে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় মিডওয়াইফারি যুক্ত করার বিষয়ে আয়োজিত একটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানেও অংশ নেবেন তিনি।
এর আগে বুধবার বোয়িং গ্লোবালের প্রেসিডেন্ট ড. ব্রেন্ডন নেলসনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতের কর্মসূচি রয়েছে। এ সময় বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে একটি চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে।
২৭ সেপ্টেম্বর দেশে ফেরার কথা
সফর শেষে শুক্রবার রাতে নিউইয়র্ক থেকে দুবাইয়ের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা প্রধানমন্ত্রীর। সেখানে কয়েক ঘণ্টা যাত্রাবিরতির পর ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন তিনি।
সূচি অনুযায়ী, ২৭ সেপ্টেম্বর সকালে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের।