এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার প্রথম দিন: ২৫ হাজারের বেশি অনুপস্থিত, বহিষ্কার ৭
ডেক্স নিউজ:
সারা দেশে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা মঙ্গলবার শুরু হয়েছে। প্রথম দিনেই মোট ২৫ হাজার ৪০৮ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন। এছাড়া অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে ছয়জন পরীক্ষার্থী এবং একজন পরিদর্শককে বহিষ্কার করা হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী এএনএম এহসানুল হক মিলন জানান, পরীক্ষার সার্বিক পরিস্থিতি সন্তোষজনক ছিল। তিনি বলেন, “দেশের কোথাও কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোনো আশঙ্কাও নেই।”
প্রথম দিনে সকাল ১০টায় নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বাংলা (বাধ্যতামূলক) প্রথম পত্র, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে কুরআন মজিদ ও তাজবিদ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে বাংলা (২) বিষয়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী—
* সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে ১১,৩৪,৮৫৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১১,৮৯০ জন (১.০৫%) অনুপস্থিত
* মাদ্রাসা বোর্ডে ২,৫৪,৯০৩ জনের মধ্যে ১১,২১১ জন (৪.৪%) অনুপস্থিত
* কারিগরি বোর্ডে ১,১৯,২৫০ জনের মধ্যে ২,৩০৭ জন (১.৯৩%) অনুপস্থিত
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সকাল থেকেই পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কেন্দ্রমুখী হতে দেখা যায়। যানজট এড়াতে এ বছর ঢাকায় সকাল ৮টা থেকেই পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়।
শিক্ষামন্ত্রী ঢাকা ও মানিকগঞ্জের কয়েকটি কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এর মধ্যে সাভারের তেতুলঝোরা হাই স্কুল, মিরপুর মফিদে আম স্কুল অ্যান্ড কলেজ, পাইকপাড়ার মডেল একাডেমি এবং মানিকগঞ্জের জয়মন্টপ ও শাহোরাইল হাই স্কুল উল্লেখযোগ্য।
পরিদর্শন শেষে তিনি জানান, একটি কেন্দ্রে একজন শিক্ষার্থীকে অন্যের উত্তরপত্র দেখে লিখতে দেখা গেছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে। বাকি কেন্দ্রগুলোর পরিবেশ সন্তোষজনক ছিল।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির তথ্য অনুযায়ী, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে একজন পরিদর্শককে বহিষ্কার করা হয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, কোভিড-১৯ মহামারির সময় পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমে গেলেও পরে তা স্থিতিশীল হয়। তবে ২০২৫ সাল থেকে আবার কমতে শুরু করেছে, যা চলতি বছরেও অব্যাহত রয়েছে। ভবিষ্যতে এ সংখ্যা আর কমবে না বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এ বছর দেশের ৩০,৬৬৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১৮ লাখ ৫৭ হাজার পরীক্ষার্থী ৩,৮৮৫টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। গত বছর এই সংখ্যা ছিল প্রায় ১৯ লাখ ২৮ হাজার।
তীব্র গরম ও লোডশেডিংয়ের মধ্যে এবারের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
বর্তমান মেয়াদে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের অধীনে এটিই প্রথম পাবলিক পরীক্ষা