সংবাদ শিরোনাম

সোনাইচন্ডী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহা: রইশুদ্দীনের বর্ণাঢ্য কর্মজীবন শেষে বিদায়

 প্রকাশ: ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৪:৩৩ অপরাহ্ন   |   রাজশাহী

সোনাইচন্ডী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহা: রইশুদ্দীনের বর্ণাঢ্য কর্মজীবন শেষে বিদায়

নাচোল (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি:

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সোনাইচন্ডী উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক (গণিত) মোহা: রইশুদ্দীনের অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দীর্ঘ ও গৌরবময় শিক্ষকতা জীবন শেষে তিনি অবসরে গেলেন।

এসময় অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুস সালাম এর সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন, প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুর রহিম, বাশিশ নাচোল উপজেলা শাখার সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক তাজামুল হক গোলাবাড়ী উচ্চবিদ্যালয়, রাকাব সোনাইচন্ডী শাখার ব্যবস্থাপক ওয়াহুদুজামান ও শিক্ষানুরাগী মাহবুবুল আলম।

​মোহা: রইশুদ্দীন ১৩ জানুয়ারি ২০১১ সালে সোনাইচন্ডী উচ্চ বিদ্যালয়ে গণিত বিষয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। এর আগে তিনি ১ জুন ১৯৮৯ সালে রাধানগর এএনসি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করেন এবং ২০১০ সাল পর্যন্ত সেখানে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ প্রায় ৩৭ বছরের শিক্ষকতা জীবনে তিনি হাজারো শিক্ষার্থীকে গাণিতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করেছেন।

​উপজেলার কসবা ইউনিয়নের সব্দলপুর গ্রামের এই কৃতি সন্তান শৈশব থেকেই মেধাবী ছিলেন। ১৯৭৫ সালে সোনাইচন্ডী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ৫ম শ্রেণীতে বৃত্তি লাভ করেন তিনি। এরপর ১৯৮১ সালে সোনাইচন্ডী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ১৯৮৪ সালে আদিনা ফজলুল হক সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। ১৯৮৬ সালে রহনপুর ইউসুফ আলী কলেজ থেকে বিএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন।

​পারিবারিক জীবনে তিনি তিন কন্যা সন্তানের জনক। তার জ্যেষ্ঠ কন্যা রাজশাহী কলেজ থেকে এবং মেজ কন্যা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রি (অনার্স-মাস্টার্স) সম্পন্ন করেছেন। ছোট কন্যা বর্তমানে রাজশাহী নিউ গভর্নমেন্ট ডিগ্রি কলেজে অধ্যয়নরত।

​বিদায় অনুষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুর রহিম প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ক্রেস্ট উপহার দেন এবং আবেগপ্লুত কণ্ঠে বলেন, মোহা: রইশুদ্দীন সাহেব শুধু একজন শিক্ষকই নন, তিনি ছিলেন প্রতিষ্ঠানের প্রাণ। একজন দক্ষ গণিত শিক্ষককে হারিয়ে প্রতিষ্ঠান এক অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হলো।"

অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ফান্ডের পক্ষ থেকে সঞ্চয়কৃত ১ লক্ষ ৭১ হাজার টাকার চেক তার হাতে সম্মাননা হিসেবে তুলে দেওয়া হয়। সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে তিনি কর্মস্থল ত্যাগ করেন।