পবিত্র ঈদুল আজহায় টানা ৭ দিনের ছুটি, নির্বিঘ্ন ঈদযাত্রার প্রস্তুতি দেশজুড়ে

 প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৬, ১০:৩০ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

পবিত্র ঈদুল আজহায় টানা ৭ দিনের ছুটি, নির্বিঘ্ন ঈদযাত্রার প্রস্তুতি দেশজুড়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক :

​আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ কর্মজীবী মানুষের জন্য এক অভূতপূর্ব স্বস্তির খবর নিয়ে এসেছে সরকার। আগামী ২৮ মে মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই ধর্মীয় উৎসব উদযাপিত হতে যাচ্ছে। প্রতি বছরই ঈদের সময় রাজধানী ছাড়ার চিরচেনা ভোগান্তি আর মহাসড়কের দীর্ঘ যানজট সাধারণ মানুষের আনন্দকে কিছুটা হলেও ম্লান করে দেয়। তবে এবার আগের তিক্ত অভিজ্ঞতার আলোকে ঈদযাত্রা পুরোপুরি নির্বিঘ্ন ও স্বস্তিদায়ক করতে আগেভাগেই দূরদর্শী পদক্ষেপ নিয়েছে মন্ত্রিসভা। পূর্বনির্ধারিত ছুটির পরিধি আরও বাড়িয়ে এবার টানা ৭ দিনের ছুটির চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। সরকারের এই ইতিবাচক সিদ্ধান্তের ফলে এবার নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা লাখো মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই লাঘব হবে এবং তারা পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘ সময় আনন্দের মুহূর্তগুলো ভাগ করে নিতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

​প্রথমে সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী ২৮ মে ঈদুল আজহার মূল দিনটিতে সাধারণ ছুটি এবং এর আগে-পরে মিলিয়ে মোট ৫ দিনের ছুটির পরিকল্পনা ছিল। সেই হিসেব অনুযায়ী ২৬ ও ২৭ মে দুদিন এবং ঈদের পরে ২৯ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত তিনদিন নির্বাহী আদেশে ছুটি নির্ধারিত রাখা হয়েছিল। কিন্তু লাখ লাখ মানুষের একসাথে ঢাকা ছাড়ার চাপ সামাল দিতে এবং মহাসড়কগুলোর ওপর থেকে যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ কমাতে গত ৭ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে ছুটি আরও একদিন বাড়ানোর ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২৫ মে সোমবারও সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয় এবং এর বিপরীতে পূর্ববর্তী ২৩ ও ২৪ মে যথারীতি অফিস খোলা রাখার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। মন্ত্রিসভার এই গ্রিন সিগন্যালের পর গত ১৪ মে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে টানা সাত দিনের ছুটির প্রজ্ঞাপন জারি করে।

​জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আগামী ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত টানা সাত দিন বন্ধ থাকবে। এই দীর্ঘ ছুটির ফলে দেশের চাকুরিজীবী মহলে এক ধরনের উৎসবমুখর আমেজ তৈরি হয়েছে, কারণ অনেকেই এবার কোনো রকম তাড়াহুড়ো ছাড়াই পরিবারের কাছে পৌঁছাতে পারবেন। তবে দীর্ঘ এই ছুটির মধ্যেও দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং জরুরি নাগরিক সেবা যেন বিন্দুমাত্র ব্যাহত না হয়, সেদিকে কঠোর নজর রেখেছে প্রশাসন। প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, সাধারণ মানুষ যেন কোনো ধরনের নাগরিক ভোগান্তিতে না পড়েন, সেজন্য বেশ কিছু জরুরি সেবাকে এই ছুটির আওতামুক্ত রাখা হয়েছে।

​জরুরি পরিষেবার তালিকায় থাকা বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ছুটির দিনগুলোতেও সার্বক্ষণিক চালু থাকবে। একই সঙ্গে ফায়ার সার্ভিস, দেশের সব সমুদ্র ও স্থলবন্দরের কার্যক্রম, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং যোগাযোগ রক্ষার প্রধান মাধ্যম টেলিফোন, ইন্টারনেট ও ডাক সেবা সংশ্লিষ্ট অফিসগুলো পূর্ণ শক্তিতে কাজ করে যাবে। এসব জরুরি কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত যানবাহন ও কর্মীরা ছুটির দিনগুলোতেও রাজপথে সক্রিয় থাকবেন। দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে এবং জরুরি আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য সচল রাখতেই মূলত বন্দরগুলোকে এই ছুটির আওতার বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

​নাগরিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনা করে চিকিৎসাব্যবস্থাকেও এই ছুটির বাইরে সম্পূর্ণ সচল রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, দেশের সব হাসপাতাল ও জরুরি চিকিৎসা সেবা এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঈদের ছুটিতেও সাধারণ মানুষকে নিরবচ্ছিন্ন সেবা দিয়ে যাবেন। একই সঙ্গে জীবনরক্ষাকারী ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামাদি বহনকারী যানবাহন এবং এই কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা ছুটির আওতামুক্ত থাকবেন, যাতে দেশের কোথাও চিকিৎসার সংকট তৈরি না হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পবিত্র ঈদুল আজহা যেন দেশের প্রতিটি মানুষের ঘরে আনন্দের বার্তা নিয়ে আসে এবং ঈদ ভ্রমণ যেন নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক হয়, সেই লক্ষ্যেই সরকার সব ধরনের প্রশাসনিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement