১৯ বছরের ক্ষোভের বিস্ফোরণ: জামালপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ, ভোগান্তিতে হাজারো যাত্রী

 প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৬, ১০:২৭ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

১৯ বছরের ক্ষোভের বিস্ফোরণ: জামালপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ, ভোগান্তিতে হাজারো যাত্রী

​বিশেষ প্রতিবেদক :

​এক-দুই বছর নয়, দেখতে দেখতে কেটে গেছে দীর্ঘ ১৯টি বছর। বছরের পর বছর ধরে বুকসমান পানিতে তলিয়ে থাকছে ফসলি জমি, ঘরের দাওয়ায় থৈ থৈ করছে নোংরা পানি। দিনের পর দিন স্থানীয় প্রশাসন থেকে শুরু করে জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও মিলেনি স্থায়ী কোনো সমাধান। অবশেষে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া সেই মানুষগুলো ক্ষোভের চরম বহিঃপ্রকাশ ঘটালেন রাজপথে। আজ রোববার বেলা ১১টা ১০ মিনিটের দিকে জামালপুর শহরের জামালপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। এতে করে জামালপুর থেকে টাঙ্গাইলমুখী লেনে সব ধরনের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়, যার ফলে তীব্র গরমের মধ্যে চরম ভোগান্তিতে পড়েন হাজারো যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিক।

​অবরোধের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান জামালপুরের দাপুনিয়া, জঙ্গলপাড়া, দড়িপাড়া, পূর্ব ফুলবাড়ীয়া, শাহাপুর ও বিসিক এলাকার কয়েক শত বাসিন্দা। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে ব্যারিকেড দিয়ে তারা সড়কের ওপর বসে পড়েন। তাদের হাতে ছিল জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবিতে নানা স্লোগান সংবলিত প্ল্যাকার্ড। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, সামান্য বৃষ্টি হলেই পুরো এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়ে। অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং বিসিক শিল্প নগরীসহ আশপাশের ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় এই কৃত্রিম জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘ ১৯ বছর ধরে তারা এই নরকযন্ত্রণা সহ্য করছেন। বিঘার পর বিঘা ফসলি জমি চাষের অযোগ্য হয়ে পড়েছে, ঘরের ভেতর পানি ঢুকে আসবাবপত্র নষ্ট হচ্ছে, এমনকি পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় এলাকায় নানা চর্মরোগসহ পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ছে। বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে কোনো স্থায়ী নালা বা ড্রেন নির্মাণ করা হয়নি, যার ফলে আজ তারা বাধ্য হয়ে রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছেন।

​মহাসড়ক অবরোধের পরপরই রাস্তার দুই পাশে শত শত বাস, ট্রাক ও দূরপাল্লার যানবাহন আটকা পড়ে। দুপুরের তীব্র রোদে বাসের ভেতর আটকে থাকা শিশু ও বৃদ্ধ যাত্রীরা প্রচণ্ড কষ্ট পান। বিশেষ করে কাঁচামালবাহী ট্রাকগুলো আটকা পড়ায় ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের লোকসানের শঙ্কায় পড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায় স্থানীয় থানা পুলিশ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তারা আন্দোলনকারীদের সাথে কথা বলে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে বিক্ষোভকারীরা সাফ জানিয়ে দেন, এবার আর কোনো ফাঁকা আশ্বাসে তারা সড়ক ছাড়বেন না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ড্রেন নির্মাণের লিখিত ও সুনির্দিষ্ট ঘোষণা না পাওয়া পর্যন্ত এই অবরোধ চলবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তারা। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে এলাকাবাসীর আলোচনা চলছিল এবং সড়কের একপাশে তীব্র যানজট লেগে ছিল।

Advertisement
Advertisement
Advertisement