চাহিদার চেয়ে বেশি পশু, সীমান্ত পাহারায় বিজিবি: নির্বিঘ্ন কোরবানির প্রস্তুতি গাবতলী হাটে

 প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৬, ০৬:৩৬ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

চাহিদার চেয়ে বেশি পশু, সীমান্ত পাহারায় বিজিবি: নির্বিঘ্ন কোরবানির প্রস্তুতি গাবতলী হাটে

মহানগর ডেস্ক:

​আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশের গবাদিপশুর বাজার ও কোরবানির প্রস্তুতি নিয়ে এক আশাব্যঞ্জক চিত্র উঠে এসেছে। এবারের কোরবানি ঈদে সারাদেশে এক কোটি এক লাখ পশুর চাহিদার বিপরীতে বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় এক কোটি ২৩ লাখ গবাদিপশু প্রস্তুত রয়েছে। দেশের অভ্যন্তরেই চাহিদার চেয়ে প্রায় ২২ লাখ পশু বেশি থাকায় এবার কোরবানিদাতাদের কোনো সংকটে পড়তে হবে না। ফলে পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে কোনোভাবেই যেন চোরাইপথে বা অবৈধভাবে গরু আসতে না পারে, সে জন্য সীমান্ত এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক ও প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শনিবার (২৩ মে) সকালে রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী গাবতলী পশুর হাট পরিদর্শনে এসে সরকারের এই কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

​গাবতলী পশুর হাটের সার্বিক পরিস্থিতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ব্যবস্থাপনা স্বচক্ষে দেখার জন্য এই পরিদর্শনের আয়োজন করা হয়। হাট পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশীয় খামারিদের স্বার্থ রক্ষা এবং দেশের অর্থনীতিকে চাঙা রাখতে অবৈধ পশুর অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। সীমান্ত পার হয়ে কোনো পশু যাতে দেশের বাজারে প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য বিজিবি রাতের অন্ধকারেও বিশেষ টহল ও নজরদারি জোরদার করেছে। এর পাশাপাশি দেশের ভেতরেও বিভিন্ন মহাসড়ক ও পশুর হাটের প্রবেশমুখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।

​হাটের সার্বিক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার বিষয়ে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, পশুর হাটে যেকোনো ধরনের অনিয়ম, চাঁদাবাজি এবং কৃত্রিম সংকট তৈরি প্রতিরোধে প্রশাসন সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। হাটগুলোতে জাল টাকার কারবার ঠেকাতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ উদ্যোগ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সহায়তায় প্রতিটি বড় হাটে জাল টাকা শনাক্তকরণ মেশিন স্থাপন করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ দল সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে। এছাড়া, দেশের দূর-দূরান্ত থেকে আসা পশুর বিক্রেতা ও খামারিদের জন্য হাটে থাকা-খাওয়া এবং তাদের পশুর যত্নের জন্য সর্বাত্মক সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করা হয়েছে, যা অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে উন্নত।

​শুধু বিক্রেতারাই নন, ক্রেতারাও যাতে হাটে এসে নির্বিঘ্নে এবং কোনো প্রকার হয়রানি ছাড়া পছন্দের পশু ক্রয় করতে পারেন, সেজন্য সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক মনিটরিং সেল সচল রাখা হয়েছে। গাবতলী হাটে আসা কোরবানিযোগ্য পশুগুলোর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও তাৎক্ষণিক চিকিৎসার জন্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে সার্বক্ষণিক মেডিকেল সাপোর্ট টিম মোতায়েন করা হয়েছে। এই দলগুলো হাটে আসা প্রতিটি পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করছে, যাতে কোনো অসুস্থ বা ক্ষতিকর ওষুধে মোটাতাজাকরণ করা পশু হাটে বিক্রি হতে না পারে।

​একই সঙ্গে, কোরবানির পশু বিক্রি শেষে বিক্রেতারা এবং খামারিরা যাতে তাদের কষ্টার্জিত অর্থ নিয়ে নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে নিজ নিজ এলাকায় ফিরে যেতে পারেন, সেজন্য হাটের ভেতরে ও বাইরে অতিরিক্ত পুলিশ, র‍্যাব এবং সাদা পোশাকের ডিবি পুলিশ মোতায়েন করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হয়েছে। সার্বিক এই প্রস্তুতি ও তদারকির ফলে এবারের কোরবানির হাট ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের জন্যই নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

Advertisement
Advertisement
Advertisement