ঈদযাত্রায় কমলাপুরে উপচে পড়া ভিড়: শিডিউল ধরে রাখতে ও ছাদে ভ্রমণ ঠেকাতে রেলওয়ের কঠোর অবস্থান
নিজস্ব প্রতিবেদক:
পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপনে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছে ঘরমুখো মানুষ। নাড়ির টানে বাড়ি ফেরার এই ব্যাকুলতায় শনিবার সকাল থেকেই ঢাকার প্রধান রেলওয়ে স্টেশন কমলাপুরে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। প্ল্যাটফর্ম জুড়ে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় আর চিরচেনা ব্যস্ততা জানান দিচ্ছে ঈদের আগমনী বার্তা। ভোর থেকেই একের পর এক ট্রেন বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে কমলাপুর ছেড়ে যাচ্ছে। তবে ভোরের দিকে একটি লোকাল কমিউটার ট্রেনের ইঞ্জিন বিকল হওয়ার সাময়িক ধাক্কায় সকালের ট্রেনগুলো নির্ধারিত সময়ের চেয়ে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট দেরিতে ছাড়ছে। রেল কর্তৃপক্ষ অবশ্য একে বড় কোনো শিডিউল বিপর্যয় বলতে নারাজ এবং বেলা বাড়ার সাথে সাথে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
এবারের ঈদযাত্রাকে সম্পূর্ণ ভোগান্তিমুক্ত ও নিরাপদ করতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ স্টেশন এলাকায় নজিরবিহীন ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। বিশেষ করে বিনা টিকিটের যাত্রীরা যাতে প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য স্টেশনের মূল প্রবেশদ্বারের বেশ বাইরেই তৈরি করা হয়েছে শক্তিশালী বাঁশের বেষ্টনী। সেখানে তিন স্তরের চেকিং পার হয়ে তবেই মূল স্টেশনে ঢুকতে পারছেন বৈধ টিকিটধারী যাত্রীরা। টিকিট ছাড়া কাউকেই ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না, যার ফলে অতীতে দেখা যাওয়া প্ল্যাটফর্মের ভেতরে তাকালেই যে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি চোখে পড়ত, তা এবার অনেকটাই এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
সকালে কমলাপুর রেলস্টেশনের সার্বিক পরিস্থিতি এবং যাত্রী ব্যবস্থাপনা সরেজমিনে পরিদর্শনে আসেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহিমুল ইসলাম। পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এবারের ঈদযাত্রাকে অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে স্বস্তিদায়ক করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সকালে সামান্য বিলম্ব হলেও বড় ধরনের কোনো শিডিউল বিপর্যয়ের আশঙ্কা নেই। যাত্রীদের আশ্বস্ত করে সচিব বলেন, অতীতে অনেক সময় দেখা যেত টিকিট কাটার পরও অতিরিক্ত মানুষের ভিড়ে বৈধ যাত্রীরা নিজেদের আসনে গিয়ে বসতে পারতেন না, কিংবা ট্রেনে ওঠাই তাদের জন্য দুষ্কর হয়ে যেত। এবার তেমন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটবে না এবং প্রত্যেক টিকিটধারী যাত্রী অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে নিজের আসনে বসতে পারবেন।
রেল সচিব বিশেষভাবে জোর দেন ট্রেনের ছাদে ভ্রমণের বিপজ্জনক প্রবণতা বন্ধের ওপর। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ ঠেকাতে এবার সর্বোচ্চ কঠোর ও বাড়তি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। স্টেশনের প্রবেশমুখের কড়াকড়ির পাশাপাশি প্ল্যাটফর্ম ও রেললাইনের আশেপাশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে, যারা সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাচ্ছেন। ট্রেনের ছাদে কাউকে দেখা গেলেই তাৎক্ষণিকভাবে নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। নিরাপদ ভ্রমণের স্বার্থে যাত্রীদেরও সচেতন হওয়ার এবং এই আত্মঘাতী প্রবণতা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, দু-একটি ট্রেনের সামান্য বিলম্ব ছাড়া সামগ্রিকভাবে ঈদযাত্রার প্রথম দিনটি বেশ উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই অতিবাহিত হচ্ছে।