রামিসা হত্যা ও আইনশৃঙ্খলা অবনতির প্রতিবাদে উত্তাল দেশ: ঢাবিসহ দেশজুড়ে ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানীতে শিশু রামিসা হত্যার বিচার, দেশব্যাপী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি এবং বিভিন্ন স্থানে নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ (ঢাবি) দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। গতকাল ২২ মে শুক্রবার জুমার নামাজ পরবর্তী সময়ে দেশের প্রধান প্রধান শহরগুলোতে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে শিশু ও নারী নির্যাতন বৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক সহিংসতার বিরুদ্ধে এটিই ছিল সংগঠনটির পক্ষ থেকে বড় ধরনের দেশব্যাপী শোডাউন।
শুক্রবার দুপুরের পরপরই খুলনা মহানগরীতে বড় ধরনের এক বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। জুমার নামাজ শেষে নিউমার্কেট বায়তুন নূর মসজিদের সামনে হাজার হাজার নেতা-কর্মী জড়ো হন। সেখান থেকে একটি বিশাল মিছিল শুরু হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে ময়লাপোতা মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশে আইনের শাসন ভেঙে পড়েছে এবং সাধারণ মানুষের জানমালের কোনো নিরাপত্তা নেই। তারা শিশু রামিসা হত্যার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান।
একই দাবিতে সিলেটের রাজপথও ছিল উত্তাল। সিলেট নগরীর প্রাণকেন্দ্র কোর্ট পয়েন্ট থেকে শুরু হওয়া ছাত্রশিবিরের একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল চৌহাট্টা এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে অংশ নেওয়া নেতা-কর্মীরা রামিসা হত্যার খুনিদের ফাঁসির দাবিতে স্লোগান দেন। নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, বর্তমান আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে, যার বলি হতে হয়েছে ফুটফুটে শিশু রামিসাকে।
এদিকে রাজধানী ঢাকার মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় জুমার নামাজের পর সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা। ব্যস্ততম এই সড়কটিতে অবস্থান নিয়ে তারা রামিসা হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। অবরোধের কারণে কিছু সময়ের জন্য ওই এলাকায় যান চলাচল বিঘ্নিত হয় এবং থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তবে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে পুলিশকে সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে।
নারীর ওপর ক্রমবর্ধমান সহিংসতার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামেও। ২২ মে চট্টগ্রামে ধর্ষণের ঘটনা বৃদ্ধির প্রতিবাদে এবং অপরাধীদের দমনে এনসিপি ও ইসলামী ছাত্রশিবির যৌথভাবে রাজপথে নামে। দুই সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সমন্বয়ে গঠিত এই যৌথ বিক্ষোভ মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে এবং নারী নির্যাতনকারীদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করার আহ্বান জানায়।
এর আগে গত ২৪ এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের ওপর আকস্মিক হামলা এবং পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন প্রশাসনিক হয়রানির প্রতিবাদে ঢাবি ক্যাম্পাসেও উত্তাপ ছড়ায়। বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতা-কর্মীরা ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ছাত্রনেতারা দাবি করেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে সহাবস্থান এবং রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। দেশজুড়ে চলমান এই ধারাবাহিক বিক্ষোভ কর্মসূচি নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে।