ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতাদের ওপর হামলা: ছাত্রদল নেতাসহ আসামির তালিকায় শতাধিক
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঝিনাইদহ:
ঝিনাইদহ শহরে প্রকাশ্য দিবালোকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতাদের ওপর বর্বরোচিত হামলা, মারধর ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। জুমার নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পরপরই এই হামলার ঘটনা ঘটে, যাতে দলটির মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে এলাকায়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গতকাল শুক্রবার রাতে ঝিনাইদহ সদর থানায় ছাত্রদলের শীর্ষ স্থানীয় ৮ নেতাসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১১০ থেকে ১১৫ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব তারেকুল ইসলাম তারেক রেজা বাদী হয়ে এই মামলাটি করেন।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার জুমার নামাজ আদায়ের জন্য এনসিপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা ঝিনাইদহ শহরের ঐতিহাসিক পুরাতন ডিসি কোর্ট জামে মসজিদে জড়ো হয়েছিলেন। নামাজ শেষে তারা যখন মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে বের হচ্ছিলেন, ঠিক তখনই ওত পেতে থাকা একদল সন্ত্রাসী তাদের ওপর অতর্কিত ও পরিকল্পিত হামলা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র, জিআই পাইপ, বেসবল ব্যাট, ইটপাটকেল এবং ধারালো অস্ত্রে সজ্জিত ছিল। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা এনসিপি নেতাদের ওপর চড়াও হয় এবং এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে।
হামলায় এনসিপির কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়কারী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ছাড়াও তানাইম, আসিফ, আলামিন, হাসিবুর রহমান, নাহিয়ান খান নিয়াজ এবং অয়ন রহমান খানসহ আরও কয়েকজন গুরুতর আহত হন। আক্রান্ত নেতাদের চিৎকারে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় এনসিপির কর্মী-সমর্থক এবং সাধারণ মুসল্লিরা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পিছু হটতে বাধ্য হয়। তবে ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সময় তারা উপস্থিত নেতাকর্মীদের প্রাণনাশের হুমকি দেয় এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ না করলে আরও বড় ধরনের চড়া মূল্য চকাতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দেয়।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসার পাশাপাশি এই হামলার সময় ব্যাপক লুটপাটের অভিযোগও উঠেছে। এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, মারধরের পাশাপাশি হামলাকারীরা নেতাদের কাছে থাকা নগদ টাকা এবং বেশ কয়েকটি মূল্যবান মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। এছাড়া পেশাগত কাজে ব্যবহৃত এনসিপির একটি ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা মূল্যের সনি আলফা এ৬৪০০ ক্যামেরা, ট্যামরন লেন্স ও মেমোরি কার্ড জোরপূর্বক ছিনতাই করে নিয়ে যাওয়া হয়।
এই ঘটনার প্রধান আসামি করা হয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শাহেদ আহম্মেদ এবং জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ইমরান হোসেনকে। এছাড়া আসামিদের তালিকায় রয়েছেন জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি এসএম সমিনুজ্জামান সমিন, সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার রাসেল, সাবেক সহ-সভাপতি নয়ন হাওলাদার, পৌর ছাত্রদলের সভাপতি মোবারেক হোসেন ইমন এবং সাবেক যুগ্ম সম্পাদক হাদুর নাম।
এই হামলাকে কেন্দ্র করে ঝিনাইদহ রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এনসিপির পক্ষ থেকে এই কাপুরুষোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়েছে। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দলটির স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। অন্যদিকে, এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, লিখিত অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করা হয়েছে এবং মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।